প্রোটেস্ট্যান্ট সমস্যাঃ বাইবেলে ‘X’ কথাটা কোথায় লেখা আছে?
বাইবেল পাঠের ক্ষেত্রে মৌলবাদীদের সমস্যা
আমরা ক্যাথলিক যারা,
আমরা এ কথা জানি যে বহু প্রোটেস্ট্যান্ট
(Protestant) ও ইভানজেলিক্যাল (Evangelical) খ্রীষ্টানরা প্রায়ই ক্যাথলিকদের দিকে ধর্মতত্ত্ব ও খ্রীষ্টীয় বিশ্বাসের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে চ্যালেঞ্জ জানানোর চেষ্টা করেন— যেমন,
“বাইবেলে ‘X’ কথাটা কোথায় লেখা আছে?” অথবা “বাইবেলের
কোথায় ‘X’-এর বিষয়ে কথা বলা হয়েছে?”
এই ধরনের প্রশ্নগুলোর পেছনে মূলত দুটি উদ্দেশ্য
থাকে। প্রথমত, তারা ক্যাথলিকদের দেখাতে চান যে তারা হলেন “বাইবেল-অনুসারী খ্রীষ্টান” (Biblical Christians), যারা ক্যাথলিকদের
তুলনায় বাইবেলকে নির্ভুলভাবে জানেন। দ্বিতীয়ত, তারা বোঝাতে
চান যে ক্যাথলিক মণ্ডলীর বিশ্বাস পবিত্র বাইবেলের (Catholic
Church is Unbiblical) ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠেনি, কারণ যেহেতু ওই প্রশ্নগুলোর
উত্তর সরাসরি বাইবেল থেকে দেওয়া সম্ভব নয়।
সোলা স্ক্রিপচুরা (Sola
Scriptura) বা ‘কেবল বাইবেল’—ধারণাটি বাইবেলসম্মত নয়
‘সোলা স্ক্রিপচুরা’
(Sola Scriptura) হল একটি ল্যাটিন শব্দ, যার
অর্থ হলো “কেবল ধর্মশাস্ত্র” (Scripture
Alone)। প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ইভানজেলিক্যালদের
মতবাদ অনুযায়ী, বাইবেলের লিখিত অংশের মধ্যে যদি কোনকিছু খুঁজে না পাওয়া যায়, তবে তা প্রকৃত খ্রীষ্টবিশ্বাস ও ধর্মতত্ত্ব হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়। এই নীতির একটি বড় সমস্যা হলো, এটি নিজেই নিজের অবস্থানের পরিপন্থী (Self-defeating)।
কারণ ‘সোলা
স্ক্রিপচুরা’ বা ‘শুধুমাত্র ধর্মশাস্ত্র’ তে বিশ্বাস করার কথাটা বাইবেলের কোনও অংশেই লিখিত
ভাবে উল্লেখ করা নেই; সুতরাং
প্রোটেস্ট্যান্টদের উচিত নয় এই নীতিকে একটি যথার্থ খ্রীষ্টান ধর্মতত্ত্ব হিসেবে গ্রহণ করা। কৌতূহলজনক বিষয় হলো যে,
মুসলমানরাও খ্রীষ্টধর্মের সমালোচনা করতে ঠিক এ
একই নীতি ব্যবহার করেন। তারা প্রায়ই প্রশ্ন করেন, যীশু
বাইবেলে কোথায় বলেছেন, “আমি ঈশ্বর, আমার উপাসনা করো”? এছাড়া তারা এ যুক্তিও দেন যে,
যেহেতু বাইবেলে সরাসরি ‘ত্রিত্ববাদ’
(Trinity) শব্দটি উল্লেখ নেই, তাই খ্রীষ্টানদের এই বিশ্বাস মিথ্যা।
মৌলবাদীরা বাইবেলের সত্য
প্রকাশের প্রকৃতি সম্পর্কে অবগত নয়
প্রোটেস্ট্যান্ট এবং মুসলমান—এদের মতো সম্প্রদায়গুলো বাইবেলের প্রকৃতি সম্পর্কে ভুল ধারণা পোষণ করেন। বাইবেলকে নিজেদের
ধারণা অনুযায়ী আক্ষরিক ভাবে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন। বাস্তবে
বাইবেল খ্রীষ্টীয় মতবাদ ও গুরুত্বপূর্ণ
ধর্মতত্ত্বগুলির কোনো পূর্ণাঙ্গ তালিকা আমাদের সামনে সরসরি লিখিতরূপে
প্রকাশ করে না। বরং বাইবেল একটি ঐতিহাসিক
বিবরণ, কবিতা, সাহিত্য, জীবনী, প্রাবক্তিক বাণী এবং ধর্মীয় চিঠিপত্রের একটি সংকলন, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে
বিভিন্ন লেখকের দ্বারা রচিত হয়েছে। বাইবেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খ্রীষ্টীয় ধর্মতত্ত্ব—যেমন ত্রিত্ববাদ (Trinity), যীশুর ঈশ্বরত্ব বা মৃতদের পুনরুত্থান—সরাসরি বা স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা নেই। কিন্তু সামগ্রিকভাবে যখন বাইবেল পাঠ করা হয়, তখন এই ধর্মতত্ত্বগুলোর স্পষ্ট ইঙ্গিত এবং তাদের সঠিক অর্থ পাওয়া যায়।
উদাহরণস্বরূপ, ত্রিত্ববাদের ধর্মতত্ত্ব সাধু মথির লেখার ভিত্তিতে বোঝা যায় যে, যেখানে তিনি ঈশ্বরকে পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা হিসেবে উল্লেখ
করেছেন (মথি ৩:১৬; ২৮:১৯)। যীশুর ঈশ্বরত্বের ধর্মতত্ত্ব সাধু যোহনের লেখার ভিত্তিতে জানা যায়, যেখানে তিনি যীশুকে ঈশ্বরের পুত্র এবং পিতার সমতুল্য হিসেবে উল্লেখ
করেছেন (যোহন ১:১; ৮:৫৮; ১০:২৫–৩৩)। একইভাবে, মৃতদের পুনরুত্থানের ধর্মতত্ত্বটিও বাইবেলে উল্লেখ করা যীশুর পুনরুত্থানের বর্ণনার
মাধ্যমে জানা যায় (যোহন ৫:২৪–২৯; ৬:৩৯,
৪০, ৪৪, ৫৪; প্রেরিত ৪:১–২; ২৩:৭–১০; ২৪:১৪–১৫;
২৬:৬–৮; ২৬:২২–২৩; মথি
২৭:৫২–৫৩)।
যদিও এটা সত্য যে বাইবেলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খ্রীষ্টীয় ধর্মতত্ত্ব
ও ধর্মীয় বিশ্বাসের স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা, বা পুঙ্খানুপুঙ্খ
ব্যাখ্যা নেই, তবুও সামগ্রিকভাবে বাইবেল পড়লে,
এইসবের সঠিক উত্তর অনুধাবন করা যায়। আর এই কারণেই, প্রোটেস্ট্যান্টদের ‘সোলা স্ক্রিপচুরা’ (Sola Scriptura—কেবল শাস্ত্রই একমাত্র প্রমাণ) তত্ত্বটি বাস্তবে বাইবেল বিরোধী; এবং এই ‘সোলা স্ক্রিপচুরা’-র ওপর ভিত্তি করে
ক্যাথলিকদের বিরুদ্ধে তাদের যে
সমালোচনা, তাও বিভ্রান্তিকর।
Exact Word Criterion Fallacy বা ‘হুবহু শব্দ খোঁজার ভ্রান্তি’
যুক্তিবিদ্যায় এক ধরণের ভ্রান্তির কথা
বলা হয়েছে, যাকে বলা হয়, “এক্সাক্ট ওয়ার্ড ক্রাইটেরিয়ন
ফ্যালাসি”। এর অর্থ হল, যখন কোন ব্যাক্তি দাবী করে যে, সে কোন কথা বা বক্তব্য
তখনই সত্য বলে মেনে নেবে, যদি তাকে দেখানো সেটা লিখিত ভাবে উল্লেখ আছে। কিন্তু যদি
তা সরাসরি উল্লেখ না থাকে, তবে সেটা মেনে নেওয়ার কোনও যুক্তি নেই।
ভাষার মূল উদ্দেশ্য হলো ধারণা
ও
মনের ভাব আদান-প্রদান করা। কোন এক নির্দিষ্ট
ধারণাকে (Concept) ভাষায় প্রকাশ করার জন্য যে সবসময় একটি নির্দিষ্ট শব্দই (Exact word) ব্যবহার
করতে হবে, এমন কোনো নিয়ম নেই। আমরা সমার্থক শব্দ, বাক্যাংশ, রূপক
বা ভিন্ন প্রেক্ষাপট দিয়েও হুবহু একই অর্থ প্রকাশ করে থাকি।
শব্দ এবং ধারণা এক জিনিস নয়; শব্দ হলো ধারণাকে প্রকাশ করার
একটি বাহন মাত্র। অতএব, কোনো বাক্যে
নির্দিষ্ট একটি শব্দ না থাকার অর্থ এই নয় যে, সেই ধারণাটি
সেখানে অনুপস্থিত।
ধরুন, কেউ আপনাকে প্রশ্ন করল, “আপনি
কি লেখাপড়া করেছেন?” আপনি তাকে উত্তর
দিলেন, “আমি কলেজ পাশ করেছি।” তখন যদি
সেই ব্যক্তি বলে, “আপনি তো আপনার উত্তরে ‘লেখাপড়া’ শব্দটি উচ্চারণ করেননি, তার মানে আপনি লেখাপড়া করেননি!”— একেই বলা হয় এক্সাক্ট ওয়ার্ড ক্রাইটেরিয়ন ফ্যালাসি (Exact Word
Criterion Fallacy)। এখানে আপনি ‘পড়াশুনা’ শব্দটি ব্যবহার না করলেও পুরো ধারণাটি স্পষ্ট করে
দিয়েছেন।
তাই যখন কোনও প্রোটেস্ট্যান্ট
(Protestant) ও ইভানজেলিক্যাল (Evangelical) খ্রীষ্টান,
ক্যাথলিকদের প্রশ্ন করেঃ বাইবেলে কোথায় লেখা আছে যীশুর মা মারীয়া নিষ্পাপ ও নিষ্কলঙ্ক
তা দেখাও, বা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে, রোজারী জপমালা করতে হবে কিংবা বাইবেলে কোথায়
লেখা আছে, যীশু খ্রীষ্ট, মা মারীয়া ও সাধু সাধ্বীদের মূর্তি বা ছবি তৈরি করতে হবে তা
দেখাও, তা বাইবেল থেকে সরাসরি ভাবে দেখানো সম্ভব নয়। এর অর্থ যে ক্যাথলিক মণ্ডলী ও
তার ধর্মশিক্ষা বাইবেল পরিপন্থী তা কিন্তু নয়।
উপরোক্ত বিষয়গুলোর পাশাপাশি, আমি এখানে বলতে চাই যে,
বাইবেলকে খ্রীষ্টমণ্ডলীর থেকে স্বতন্ত্র ভাবে পড়ার জন্য খ্রীষ্টানদের হাতে দেওয়া হয়নি। বরং, খ্রীষ্টমণ্ডলীর পবিত্র ও প্রাচীন ঐতিহ্যের (Sacred
Tradition) প্রেক্ষাপটেই একে পড়তে হবে। খ্রীষ্টমণ্ডলীর এই পবিত্র ঐতিহ্য হলো খ্রীষ্টমণ্ডলীর জীবন্ত
বিশ্বাস, যা প্রেরিতদের (Apostles) কাছ
থেকে আমাদের কাছে হস্তান্তরিত হয়েছে। এই পবিত্র ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হলো বাইবেল;
পাশাপাশি এতে রয়েছে ধর্মপিতা পোপ ও বিশপদের
শিক্ষা, আদি খ্রীষ্টমণ্ডলীর পিতাদের (Early Church Fathers) রচনাবলি এবং সাধু সাধ্বীদের অভিজ্ঞতা। একজন খ্রীষ্টান যখন খ্রীষ্টমণ্ডলীর পবিত্র ঐতিহ্যের আলোকে বাইবেল অধ্যায়ন করে, তখন সে এর শিক্ষাগুলোকে আরও পূর্ণাঙ্গভাবে বুঝতে
পারে। একই সঙ্গে, সে বুঝতে পারে যে ক্যাথলিক মণ্ডলীর বিশ্বাস প্রকৃতপক্ষে পবিত্র বাইবেলের
সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এখন আমাদের প্রিয়
প্রোটেস্ট্যান্ট ও ইভানজেলিক্যাল খ্রীষ্টানদের কাছে তাদের
নিজস্ব পদ্ধতি ব্যবহার করে কিছু প্রশ্ন করছি
১) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় এ কথা বলেছেন : “খ্রীষ্টবিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে একটা
বইয়ের (বাইবেল/শাস্ত্র) উপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে” ?
২) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় তাঁর প্রেরিত শিষ্যদের বলেছেন : “আমি যা কিছু করছি এবং
বলছি তা তোমরা লিখে রাখো। কেন না তা ভবিষ্যতে খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের ধর্মীয় শিক্ষা,
বিশ্বাস ও অনুশাসনের একমাত্র উৎস হবে” ?
৩) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় এ কথা বলেছেন : “শাস্ত্রের (বাইবেল) লিখিত আদেশ ও
নির্দেশের বাইরে তোমরা কোন কিছু সত্য বলে বিশ্বাস করবে না” ?
৪) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় এ কথা বলেছেন : “খ্রীষ্ট বিশ্বাসীরা ধর্মীয় এবং
আধ্যাত্মিক জীবনের বিষয়ে যা কিছু জানতে চায়, সে সবকিছু
শাস্ত্রের (বাইবেল) মধ্যেই আছে। তার বাইরে নেই” ?
৫) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় তাঁর প্রেরিত শিষ্যদের এ কথা বলেছেন : “আমি তোমাদের শাস্ত্র (বাইবেল/নতুন নিয়ম) দিয়ে গেলাম।” ?
৬) নতুন নিয়মে কোথায় প্রেরিত
শিষ্যরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের এ কথা বলেছেন : “খ্রীষ্টবিশ্বাস সম্পূর্ণভাবে শাস্ত্রের লিখিত নির্দেশের উপর ভিত্তি করে
দাঁড়িয়ে আছে” ?
৭) নতুন নিয়মে কোথায় প্রেরিত
শিষ্যরা এ কথা বলেছেন : “তোমার কোনো প্রাচীন ঐতিহ্যগত পরম্পরা অনুসরণ করবে না” ?
৮) ঈশ্বরের বাণী ও সমস্ত ঐশ্বরিক
প্রকাশ শুধুমাত্র একটা বইয়ের (বাইবেল/শাস্ত্র) মধ্যেই লিখিতরূপে
সীমাবদ্ধ এবং শৃঙ্খলিত, বাইবেলে কোথায় এ কথা লেখা আছে ? যীশু খ্রীষ্ট নিজে এ কথা কোথায় বলছেন ? প্রেরিত শিষ্যরা এ কথা কোথায় বলেছেন ?
৯) নতুন নিয়মে যাঁদের আমরা
মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন নামে
জানি, তারাই যে এই বইগুলি লিখেছে, তার
প্রমান কোথায় ? এই বইগুলির লেখক যে সত্যি তাঁরাই, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
১০) বাইবেলের নতুন নিয়মে, শিষ্যচরিত এবং হিব্রু এই বইদুটি কে বা কারা লিখেছে ? তাদের নাম কি ? তাদের নাম বাইবেলে কোথায় লেখা ?
১১) বাইবেলে শুধুমাত্র মথি, মার্ক, লুক এবং যোহন নামের এই চারটে বৈধ
মঙ্গলসমাচারই (Gospel) আছে আর অন্য কোনও বৈধ মঙ্গলসমাচার নেই,
এ কথা আমরা কি ভাবে জানলাম ? সে কথা বাইবেলে
কোথায় লেখা আছে ?
১২) বাইবেলে শুধুমাত্র চারটে
মঙ্গলসমাচারই (Gospel) যে বৈধ বলে স্বীকৃত এবং ঐশ
প্রেরণার দ্বারা লিখিত, এটা কে বা কারা সিদ্ধান্ত নিয়েছে ?
এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের কে দিল ? বাইবেলে
এ কথা কোথায় লেখা আছে ?
১৩) সাধু মার্ক, সাধু লুক এবং সাধু পল, এঁরা যীশুর ১২ জন প্রেরিত
শিষ্যের কেউই নন। তবুও এঁদের লেখা বাইবেলে বৈধ বলে স্থান পেল কি ভাবে ? কাদের সিদ্ধান্তে তাঁদের লেখা বাইবেলে বৈধ এবং ঐশ প্রেরণার দ্বারা লিখিত
বলে স্থান পেল ? এ সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের কে দিল ?
বাইবেলে এ কথা কোথায় লেখা আছে ?
১৪) সাধু লুক, যীশু খ্রীষ্টকে কখনও নিজের চোখে দেখেননি। তা সত্ত্বেও তাঁর লেখা বই
মঙ্গলসমাচার হিসেবে বাইবেলে বৈধ বলে স্থান পেল কি ভাবে ? কে
বা কারা এর বৈধতা এবং সত্যতা যাচিয়ে দেখেছে ? বাইবেলে কোথায়
সে কথা উল্লেখ করা আছে ?
১৫) বাইবেলে কোথায় এ কথা লেখা
আছে : “খ্রীষ্ট যখন পৃথিবীতে আসবেন তখন তিনি বারো জনকে
নিজের প্রেরিত শিষ্য হিসেবে বেছে নেবেন” ?
১৬) যীশু খ্রীষ্টের প্রেরিত
শিষ্যরা কোথায় এবং কি ভাবে মারা গেছেন ? বাইবেলে এ বিষয়ে
কোথায় স্পষ্ট ভাবে লেখা আছে ?
১৭) যীশু খ্রীষ্ট তাঁর
প্রেরিত শিষ্যদের বাইবেলে কোথায় এ কথা বলেছেন : “তোমরা বাণীপ্রচার করবে, পালকের কাজ করবে এবং মানুষের
কাছ থেকে ঈশ্বর প্রাপ্য অর্থ সংগ্রহ করবে” ?
১৮) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় এ কথা বলেছেন : “ভবিষ্যতে পৃথিবীর বুকে অনেকগুলি
মন্ডলী দেখা দেবে এবং তারা সকলেই পবিত্র আত্মার দ্বারা পরিচালিত হবে” ?
১৯) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় এ কথা বলেছেন : “তোমরা ঈশ্বরের কাছে সরাসরি
তোমাদের পাপ স্বীকার করবে” ?
২০) প্রেরিত শিষ্যরা বাইবেলে
কোথায় এ কথা বলেছেন : “তোমরা ঈশ্বরের কাছে সরাসরি পাপ
স্বীকার করবে” ?
২১) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“আদি খ্রীষ্ট মন্ডলীর সদস্যরা ঈশ্বরের কাছে সরাসরি তাদের পাপ স্বীকার করতো
এবং তাদের সকল পাপের ক্ষমা লাভ করতো” ?
২২) যদি খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা
পাপ করলে, সরাসরি ঈশ্বরের কাছে নিজেদের পাপ
স্বীকার করতে পারতো, তাহলে যাকবের গ্রন্থে কেন একথা লেখা আছে
: “তোমরা পরস্পরের কাছে তোমাদের পাপ স্বীকার করো...(যাকব
৫:১৬)” ?
২৩) যদি পাপী মানুষ সরাসরি
ঈশ্বরের কাছে নিজেদের পাপ স্বীকার করতে পারে, তবে বাইবেলে
কেন এ কথা লেখা আছে : “ঈশ্বর পাপীদের প্রার্থনা কখনো শোনেন
না...(যোহন ৯:৩১)” ?
২৪) আমরা যে গ্রন্থকে “বাইবেল” নামে জানি, এটা আমরা কাদের কাছ থেকে পেয়েছি ? বাইবেলে তাদের নাম কোথায় লেখা আছে ?
২৫) বাইবেল দুটি ভাগে বিভক্ত।
পুরাতন নিয়ম এবং নতুন নিয়ম। এই নতুন নিয়ম আমরা কাদের কাছ থেকে পেয়েছি ?
২৬) নতুন নিয়ম কে এবং কারা
প্রণয়ন করেছে ?
২৭) নতুন নিয়ম যে ঈশ্বরের
বাণী এবং এটা যে বাইবেলের অংশ, এ কথা বাইবেলে কোথায়
লেখা আছে ?
২৮) সম্পূর্ন বাইবেল কে বা
কারা প্রণয়ন করেছে ? বাইবেলে কোথায় তাদের নাম উল্লেখ করা
আছে ?
২৯) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে, “প্রাচীন মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা নতুন নিয়ম মেনে চলতো” ?
৩০) বাইবেলের নতুন নিয়মে মোট
২৭ টি বই আছে। এই ২৭ টি বই যে বৈধ, এর প্রমাণ কি ?
এই বইগুলো যে নতুন নিয়মের মধ্যে থাকতে হবে, এ
সিদ্ধান্ত কারা নিয়েছে ? বাইবেলে কোথায় এ সবকিছুর উল্লেখ করা
আছে ?
৩১) নতুন নিয়মের সূচিপত্রে
আমরা যে ২৭ টি বইয়ের সঙ্কলন দেখতে পাই, এই সবকটা বই যে “ঈশ্বরের বাণী”, এটা কে বা কারা যাচিয়ে দেখেছে ?
তারা কিসের ভিত্তিতে এর সততা এবং বৈধতা প্রমান করেছে ? বাইবেলে কোথায় এ সবকিছুর উল্লেখ করা আছে ?
৩২) আদি মন্ডলীর
খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা “পুরাতন নিয়ম”
অনুসরণ করতো না এবং মানতো না, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৩৩) আমরা বর্তমানে যে বাইবেল
ব্যবহার করি, আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা সেই “একই” বাইবেল ব্যবহার করতো, এর
প্রমান কি ? এ কথা বাইবেলে কোথায় উল্লেখ করা আছে ?
৩৪) ঈশ্বর বাইবেলে কোথায় এ
কথা বলেছেন : “শাস্ত্রে আমি যা কিছু স্পষ্টভাবে এবং
সরাসরি উল্লেখ করেছি তোমরা তাই মেনে চলবে। আর যা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা নেই তোমরা
তা মানবে না” ?
৩৫) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা ঠিক তাই মেনে চলতো, যা
শাস্ত্রে স্পষ্ট করে লেখা আছে” ?
৩৬) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা তেমন কিছুই মেনে চলতো না, যা শাস্ত্রে স্পষ্ট করে লেখা থাকতো না” ?
৩৭) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় বলেছেন : “আমিই ঈশ্বর! তোমরা আমার উপাসনা করো,
আমার আরাধনা করো” ?
৩৮) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় বলেছেন : “আমিই প্রকৃত ঈশ্বর ! আমি ছাড়া কোনও
ঈশ্বর নেই” ?
৪০) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা মা মারীয়ার মধস্ততায় ঈশ্বরের কাছে
প্রার্থনা করতো না” ?
৪১) ঈশ্বর বাইবেলে কোথায় এ
কথা বলেছেন : “তোমরা কারও মধস্ততায় আমার কাছে
প্রার্থনা জানাবে না, তাহলে আমি তেমন প্রার্থনা শুনবো না” ?
৪২) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা মা মারীয়াকে পাপী এবং সাধারণ নারী বলে গণ্য
করতো” ?
৪৩) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“যীশু খ্রীষ্ট, পবিত্র তৃত্বের দ্বিতীয় ব্যক্তি”
?
৪৪) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে: “পিতা, পবিত্র তৃত্বের প্রথম ব্যক্তি” ?
৪৫) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“পবিত্র আত্মা, পবিত্র তৃত্বের তৃতীয় ব্যক্তি” ?
৪৬) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“পিতা, পুত্র এবং পবিত্র আত্মা, আসলে তিনজন নয়, কিন্তু এক এবং অদ্বিতীয় ঈশ্বরের
তিনটি ঐশব্যক্তি” ?
৪৭) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“যীশু খ্রীষ্ট একই সঙ্গে প্রকৃত ঈশ্বর এবং প্রকৃত মানুষ” ?
৪৮) যদি “শাস্ত্রের প্রতিটি উক্তি ঐশ প্রেরণায় অনুপ্রাণিত_(২
তিমথি ৩:১৬)” হয়, তাহলে প্রোটেস্টান্ট
মতের প্রবর্তক, মার্টিন লুথার, বাইবেল
থেকে তবিত, যুদিথ, ১ মাকাবী, ২ মাকাবী, প্রজ্ঞা, বেনসিরা
এবং বারুক এই সাতটি বই বাদ দিয়ে কেন নতুন একটি বাইবেল প্রকাশ করলেন ? কেন আজও অক্যাথলিক বাইবেলের সম্পাদকেরা উল্লেখিত এই সাতটি বই বাদ দিয়েই
বাইবেল ছাপায় ? তাদের এই কাজ করার অধিকার কে দিলো ?
৪৯) “তবিত, যুদিথ, ১ মাকাবী,
২ মাকাবী, প্রজ্ঞা, বেনসিরা
এবং বারুক” এই গ্রন্থগুলো যে অবৈধ এবং ঐশ প্রেরণায় লিখিত
গ্রন্থ নয়, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৫০) “তবিত, যুদিথ, ১ মাকাবী,
২ মাকাবী, প্রজ্ঞা, বেনসিরা
এবং বারুক” এই গ্রন্থগুলো যে খ্রীষ্টীয় বাইবেলের অংশ নয়,
এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৫১) প্রাচীন মন্ডলীর
খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা যে “তবিত, যুদিথ,
১ মাকাবী, ২ মাকাবী, প্রজ্ঞা,
বেনসিরা এবং বারুক” এই গ্রন্থগুলো পড়তো না এবং
এই গ্রন্থগুলোকে ঈশ্বরের বাণী বলে বিশ্বাস করতো না, এ কথা
বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৫২) যদি বাইবেলই সকল
খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের কাছে একমাত্র সত্যের আধার হয়ে থাকে, তাহলে সাধু পল কেন বলেছেন : “মন্ডলী সত্যের স্তম্ভ ও
প্রাকার_(১ তিমথি ৩:১৫)” ?
৫৩) সাধু পলের যে সময়ের এই
বক্তব্য : “মন্ডলী সত্যের স্তম্ভ ও প্রকার_(১ তিমথি ৩:১৫)”, সে সময় কি কোনও ‘অক্যাথলিক মন্ডলী’ ছিল ? যদি
ছিল, তাহলে বাইবেলে সে কথা কোথায় উল্লেখ আছে ?
৫৪) যদি খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের
শুধুমাত্র বাইবেলের কর্তৃত্ব স্বীকার করা উচিত, তাহলে সাধু পল কেন বলেছেন : “যাকব, পিতর এবং যোহন মন্ডলীর স্তম্ভ বলে স্বীকৃত_(গালাতীয়
২:৯)” ? যদি শাস্ত্রই (বাইবেল) সাধু
পলের কাছে সব হতো, আর যদি শুধুমাত্র শাস্ত্রেরই কর্তৃত্ব
স্বীকার করা উচিত, তাহলে তিনি বিজাতীয়দের কাছে বাণীপ্রচার
করতে যাওয়ার সম্মতি যাকব, পিতর এবং যোহনের কাছ থেকে কেন
নিলেন (গালাতীয় ২:৯) ? সাধু পল এখানে তাহলে কোনটাকে বেশি
প্রাধান্য দিলেন ? শাস্ত্র না মন্ডলী ?
৫৫) যদি কোনো ব্যক্তির
শাস্ত্র (বাইবেল) জ্ঞান থাকে এবং সে যদি নিজেই বাণীপ্রচার করতে পারে এবং এই
বাণীপ্রচারের কাজ করার জন্য তার যদি খ্রীষ্টমন্ডলীর অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন না থাকে, তাহলে বাইবেলে কেন লেখা আছে : “আর প্রেরিত না হলে,
কেউ বাণী প্রচার করবেই বা কেমন করে_(রোমীয়
১০:১৬)” ?
৫৬) যখন আদি খ্রীষ্টমন্ডলীতে
কোনও বিশেষ সমস্যা দেখা দিত, তখন প্রেরিত শিষ্যরা
“মন্ডলীর সভা”_(শিষ্যচরিত ৬:১-৬,
১৫:৬-২৯) কেন আয়োজন করতো ? যদি বাইবেলেই
সবকিছু স্পষ্ট করে লেখা আছে, তাহলে “মন্ডলীর
সিদ্ধান্ত” সকল খ্রীষ্টবিশ্বাসী ঈশ্বরের আজ্ঞা বলে কেন মেনে
নিতো_(শিষ্যচরিত ১৫:২২) ?
৫৭) ক্যাথলিকরা মন্ডলীর
সিদ্ধান্ত ও নির্দেশগুলো মেনে চলে। যদি এই কাজ বাইবেল বিরোধী হয়, তাহলে বাইবেলে কেন লেখা আছে : “পল ও তাঁর সঙ্গীরা যে
যে শহরে যেতেন, সেখানকার শিষ্য মন্ডলীকে তাঁরা প্রেরিতদূত ও
জেরুজালেমের প্রবীণদের নির্দেশগুলি জানিয়ে তাদের তা পালন করতে বলতেন। ফলে
মন্ডলীগুলির মধ্যে খ্রীষ্টবিশ্বাস যেমন আরও দৃঢ়মূল হতে লাগলো, তেমনি শিষ্যদের সংখ্যাও দিনে দিনে বাড়তে লাগলো_(শিষ্যচরিত
১৬:৪-৫)” ? সাধু পল ও তাঁর সঙ্গীরা
বাইবেলের নির্দেশগুলো জানিয়ে তাদের কেন পালন করতে বললো না ?
৫৮) ক্যাথলিকরা শুধুমাত্র
যীশু খ্রীষ্টেরই নয়, কিন্তু মা মারীয়া ও সাধুসাধীদেরও
জীবনের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে থাকে। যদি এই কাজ বাইবেল বিরোধী হয়, তাহলে সাধু পল কেন বলেছেন : “আমি যেমন খ্রীষ্টের
দৃষ্টান্ত অনুসরণ করি, তোমরা তেমনি আমারই দৃষ্টান্ত অনুসরণ
করো_(১ করিন্থীয় ১১:১)” ? তিনি এ কথা কেন বলেছেন : “আমি যে ভাবে চলি, তোমরাও, ভাই, সবাই মিলে সেই
ভাবেই চলো ! যে দৃষ্টান্ত তোমাদের সামনে আমরা রেখেছি, সেই
মতো যারা জীবনযাপন করে, তোমরা বরং তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকো_(ফিল্লিপ্পীয় ৩:১৭)” ?
৫৯) “আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা, যীশু খ্রীষ্ট ছাড়া,
মা মারীয়া এবং সাধুসাধীদের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করতো না”, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৬০) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“ঈশ্বর মারীয়াকে শুধুমাত্র যীশু খ্রীষ্টকে জন্ম দেওয়ার জন্য ব্যবহার
করেছিলেন” ?
৬১) বাইবেলে কোথায় লেখা আছে :
“আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা সাধুসাধীদের মধস্ততায় ঈশ্বরের কাছে
প্রার্থনা করতো না” ?
৬২) ঈশ্বর বাইবেলে কোথায় এ
কথা বলেছেন : “তোমরা প্রার্থনার সময় ধুপধুনো এবং বাতি
জ্বালাবে না” ?
৬৩) “আদি মন্ডলীর খ্রীষ্টবিশ্বাসীরা প্রার্থনা করার সময় ধুপধুনো এবং বাতি
জ্বালাতো না”, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৬৪) “মারীয়া জাগতিক অর্থে যীশু খ্রীষ্টের মা, আর তেমন
কিছুই নয়”, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৬৫) “মা মারীয়া এবং সাধুসাধীরা মৃত, তাঁরা আমাদের
প্রার্থনা শুনতে পায়না ও সাহায্যও করতে পারে না”, এ কথা
বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৬৬) “মা মারীয়া এবং সাধুসাধীরা মৃত !” কি অর্থে তাঁরা মৃত
? শারীরিক ভাবে না আত্মিক ভাবে ? কারণ
যীশু বলেছেন : ঈশ্বর তো মৃতদের নন, জীবিতদেরই ঈশ্বর ! সুতরাং
আপনাদের ধারণা পুরোপুরি ভুল...(মার্ক ১২:২৭)। আবার তিনি একথাও বলেছেন : ...কেউ যদি
আমার উপর বিশ্বাস রাখে, তবে সে মারা গেলেও জীবিত
থাকবে...(যোহন ১১:২৫)।
৬৭) যে সকল মৃত ব্যক্তিদের
যীশু পুনঃজীবন দিয়ে আবার বাঁচিয়ে তুলেছিলেন, তাদের আত্মা,
মৃত্যুর পর থেকে নিয়ে পুনঃজীবন ফিরে পাওয়ার সময় অবধি কোথায় ছিল ?
বাইবেলে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে কোথায় লেখা আছে ? কেননা
বাইবেলে এ কথা লেখা আছে : মৃত্যুর পর মানুষের দেহ মাটিতে ফিরে যায়, আর আত্মা ফিরে যায় ঈশ্বরের কাছে...(উপদেশক ১২:৭)। আবার এও লেখা আছে :
মানুষকে একবারই মরতে হয়, আর তার পরে তার বিচার হয়...(হিব্রু
১০:২৭)।
৬৮) “স্বর্গে এখন যীশু খ্রীষ্ট (ঈশ্বর) ছাড়া আর কেউই ( মানুষের আত্মা ) নেই”,
এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৬৯) আমরা যে বইটি কে “বাইবেল” বলে জানি, সেটার নাম
যে ‘বাইবেল’, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা
আছে ?
৭০) বাইবেল কারা প্রথমে অন্য
ভাষায় ভাষান্তরিত করে ? বাইবেলে কোথায় তাদের নাম লেখা
আছে ?
৭১) “যীশু খ্রীষ্ট বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাঁর মা, মারীয়া নয়”, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৭২) যীশু খ্রীষ্ট বাইবেলে
কোথায় বলেছেন : “তোমাদের যাজকের প্রয়োজন নেই” ?
৭৩) ২৫ শে ডিসেম্বর যীশু
খ্রীষ্টের জন্মদিন পালন করা হয়। সেই দিনই যে যীশু খ্রীষ্টের জন্ম হয়, সে কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৭৪) “যীশু খ্রীষ্টকে ব্যাপ্তিস্ম দ্বারা গ্রহণ করা ও শাস্ত্র (বাইবেল) জানা যে
কোনও ব্যক্তি নিজের মন্ডলী ( Fellowship and Church ) প্রতিষ্ঠা
করতে পারে”, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৭৫) “যীশু খ্রীষ্টকে তোমার ব্যক্তিগত প্রভু ও ত্রাণকর্তা রূপে তোমার হৃদয়ে
গ্রহণ করো”, এ কথা বাইবেলে কোথায় লেখা আছে ?
৭৬) “শুধুমাত্র প্রার্থনা করা, বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র
বাজিয়ে গান গাওয়া, জোরে জোরে স্তুতি প্রশংসা করাই হলো
ঈশ্বরকে সত্য এবং আত্মায় উপাসনা করা”, এ কথা বাইবেলে কোথায়
লেখা আছে ?
৭৭) বাইবেলে ঈশ্বর কোথায় এ
কথা বলেছেন : “আমি নিরাকার। আমার কোনো রূপ নেই” ?
৭৮) বাইবেল খুললে আমরা দেখি, বাইবেলের বইগুলি বড় সংখ্যা এবং ছোট সংখ্যায় বিভক্ত। বড় সংখ্যাগুলিকে বলা ‘অধ্যায়’ আর ছোট সংখ্যাগুলিকে বলা হয় ‘পদ’। হিব্রু বাইবেল কিন্তু অধ্যায় এবং পদে বিভক্ত
ছিল না। তা প্যাপীরাস এবং চামড়ার তৈরি পাণ্ডুলিপিতে একটানা লেখা থাকতো। তাহলে কারা
সম্পূর্ণ বাইবেলকে অধ্যায় এবং পদ সংখ্যা দিয়ে বিভক্ত করলো ? বাইবেলে
কোথায় তাদের নাম উল্লেখ করা আছে ?
৭৯) অক্যাথলিকরা প্রায়ই এ কথা
বলে থাকে : “ঈশ্বরের দৃষ্টিতে আমাদের ভালো হওয়া
উচিত, মানুষের কাছে ভালো না হলেও চলবে !”, যদি এটাই সত্যি হয়, তাহলে সাধু পল কেন এ কথা বলেছেন
: “কেন না শুধু প্রভুর দৃষ্টিতে নয়, মানুষের
দৃষ্টিতেও যা ভালো, আমরা তো তাই করতে বিশেষ চেষ্টা করে
থাকি...(২ করিন্থীয় ৮:২১)” ?
৮০) যদি খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের
শুধুমাত্র ঈশ্বরেরই অনুগত হওয়া উচিত, তাহলে সাধু পল কেন এ
কথা বলেছেন : “খ্রীষ্টকে সম্ভ্রম করো বলেই তোমরা পরস্পরের
প্রতি অনুগত হয়ো...(এফেসীয় ৫:২১)” ?
৮১) যদি যীশু খ্রীষ্ট
আমাদেরকে পাপ থেকে উদ্ধার করে, আমাদের আত্মার
পরিত্রাণ দিয়েছেন এবং আমাদেরকে এর জন্য কিছুই করার প্রয়োজন নেই। তাহলে সাধু পল কেন
এ কথা বলেছেন : “তোমরা গভীর সম্ভ্রমের সঙ্গে তোমাদের
পরিত্রানের সাধনা করেই চলো...(ফিলিপ্পীয় ২:১২)” ?
৮২) যীশু খ্রীষ্টের যন্ত্রণা
ভোগ যদি বাকি না থাকে, তাহলে, সাধু
পল কেন এ কথা বলেছেন : “যে দুঃখক্লেশ ভোগ করতে খ্রীষ্টের
এখনও বাকি আছে, আমি তো এই ভাবে আমার নিজের দেহে তা সাধ্যমত
পূরণ করে দিচ্ছি...(কলসীয় ১:২৪)” ?
৮৩) ধর্মপালন যদি বাইবেল
বিরোধী হয়, তাহলে, সাধু পল
কেন এ কথা বলেছেন : “আর সত্যি সত্যিই ধর্মপালনে তো বিরাট
লাভই হয়...(১ তিমথি ৬:৬)” ?
৮৪) মৃতের পুনরুত্থান যদি
শেষবিচারের দিনে যীশু খ্রীষ্টের আগমনেই হওয়ার কথা, তাহলে বাইবেলে কেন এ কথা লেখা আছে : “মৃতের
পুনরুত্থান হওয়াতে কোন কোন নারী তাঁদের মৃত প্রিয়জনকে ফিরে পেলেন...(হিব্রু ১১:৩৫)”
?
৮৫) শেষবিচারের দিনে যখন যীশু
খ্রীষ্ট আসবেন মানবজাতির বিচার করতে, তিনি তখন জীবিত ও
মৃতের সকলেরই বিচার করবেন। তখন কারা স্বর্গে যাবে আর কারা নরকে যাবে সেই সিদ্ধান্ত
নেওয়া হবে। যদি তাই হয়, তাহলে বাইবেলে কেন এ কথা লেখা আছে : “সদোম, গমোরা আর তার আশেপাশের শহরের অধিবাসীরা তাদের
পাপের কারণে এখন নরকে শাশ্বত আগুনে শাস্তি ভোগ করছে...(যুদ ১:৭)” ?
৮৬) “যীশু খ্রীষ্টকে শুধু বিশ্বাস করলেই পরিত্রাণ পাওয়া যাবে। এর জন্য মানুষকে
কোনো সৎকর্ম, ধর্মপালন করার কিংবা খ্রীষ্টমণ্ডলীর ধর্মশিক্ষা
মেনে চলার প্রয়োজন নেই”, এ কথা বাইবেলে কোথায়
লেখা আছে ?
৮৭) আমাদের সকলকে যীশু
খ্রীষ্টের মতোই হয়ে ওঠা উচিত। তাই যদি হয়, তাহলে,
সাধু পল কেন একথা বলেছেন : “তোমরা বরং আমার
মতোই হও, আমিও তো তোমাদেরই মতো হয়েছি...(গালাতীয় ৪:১২)” ?
৮৮) যদি খ্রীষ্টবিশ্বাসীদের
জীবনে এমন কোনো ধর্মীয়, নৈতিক এবং মনস্তাত্ত্বিক সমস্যা
দেখা দেয়, যার বিষয়ে কোনো উল্লেখই বাইবেলে করা নেই, তখন একজন খ্রীষ্টবিশ্বাসী সেই বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত কীভাবে নেবে ?
৮৯) প্রার্থনা কাকে বলে ? বাইবেলে কোথায় এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে ?
৯০) স্তুতি কাকে বলে ? বাইবেলে কোথায় এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে ?
৯১) আরাধনা কাকে বলে ? বাইবেলে কোথায় এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে ?
৯২) উপাসনা কাকে বলে ? বাইবেলে কোথায় এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে ?
৯৩) সত্য এবং আত্মায় উপাসনা
কাকে বলে ? বাইবেলে কোথায় এর সংজ্ঞা দেওয়া আছে ?
৯৪) যদি প্রার্থনায় একই কথা
বারবার বলা উচিত নয়...(মথি ৬:৭), তাহলে যীশু খ্রীষ্ট
নিজেই একই কথা তিন তিনবার বলে কেন প্রার্থনা করলেন...(মথি ২৬:৩৯, ৪২, ৪৪) ? কেনই বা খেরুবদূতেরা
একই কথা দিনরাত অবিরাম বলে গেয়ে চলেছে...(প্রত্যাদেশ ৪:৮) ?
৯৫) সাধু যুদ প্রবক্তা এনোখের
কথা উল্লেখ করেছেন...(যুদ ১:১৪)। বাইবেলে প্রবক্তা এনোখের গ্রন্থ কোথায় আছে ? আর যদি তার উল্লেখ না থাকে, তাহলে সাধু যুদ এমন কিছু
কেন উল্লেখ করলেন, যার উল্লেখ বাইবেলে প্রবক্তাদের গ্রন্থে
নেই ?
৯৬) যদি সাধু পলের বক্তব্য
অনুযায়ী : “সকলেই পাপী..(রোমীয় ৩:২৪)”, তবে এই বাক্য অনুসারে ক্যাথলিকরা যেমন, তেমনি অক্যাথলিক
পালক ও বাণীপ্রচারকেরাও পাপী। যেহেতু এরা সকলেই মানুষ। কারণ এরা কেউই একথা বলতে
পারবে না : ‘আমার মধ্যে কোনো পাপ নেই’।
আর তাই যদি হয়, তাহলে অক্যাথলিক পালক ও বাণীপ্রচারকেরা কেমন
করে অন্য মানুষকে পাপ ত্যাগ করে মনপরিবর্তন করার কথা বলতে পারে, যখন তারা নিজেরাই অন্যদের মতই পাপী ? অন্ধ কি কখনো
অন্ধকে পথ দেখাতে পারে...(মথি ১৫:১৪) ?
৯৭) অনেক সময় অক্যাথলিকরা, বাইবেলের বাণীর অপব্যাখ্যা ক'রে, ক্যাথলিক মন্ডলীকে ব্যাবিলনের বেশ্যা বলে কুইঙ্গিত করে থাকে। তাহলে
বাইবেলে কেন একথা লেখা আছে : “এই ব্যাবিলনের খ্রীষ্টমন্ডলীর
মানুষেরা, যারা তোমাদের মতোই মনোনীত মন্ডলীর মানুষ...(১ পিতর
৫:১৩)” ?
৯৮) যদি যীশু খ্রীষ্টই, ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একজন মাত্র মধ্যস্থ...(১ তিমথি ২:৫), তাহলে পবিত্র আত্মা আমাদের জন্য কেন প্রার্থনা করে...(রোমীয় ৮:২৬) ?
তাহলে এখন ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে কতজন মধ্যস্থ দাঁড়ালো ?
৯৯) যদি যীশু খ্রীষ্টই, ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একজন মাত্র মধ্যস্থ...(১ তিমথি ২:৫), তাহলে বাইবেলে কেন লেখা আছে : “এখন শুধুমাত্র একপক্ষ
থাকলে তো কোন মধ্যস্থের প্রয়োজন হয় না। এদিকে ঈশ্বর তো এক...(গালাতীয় ৩:২০)” ?
১০০) যদি যীশু খ্রীষ্টই, ঈশ্বর ও মানুষের মধ্যে একজন মাত্র মধ্যস্থ...(১ তিমথি ২:৫), তাহলে সাধু পল কেন এ কথা বলেছেন : “আমাদের জন্য
প্রার্থনা করো, ভাই...( ১ থেসা ৫:২৫)” ?
সাধু পল তো নিজেই ঈশ্বরের কাছে সরাসরি প্রার্থনা করতে পারেন। তাহলে
তিনি অন্যের মধ্যস্থ প্রার্থনা চাইছেন কেন ?
উত্তর দেওয়ার শর্ত
একটাই শর্ত, প্রোটেস্ট্যান্ট এবং ইভানজেলিক্যালদের উল্লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর “শুধুমাত্র বাইবেল” থেকে সরাসরি ভাবেই দিতে হবে। বাইবেল বহির্ভূত কোন উৎস বা রেফারেন্স ব্যাবহার করা যাবে না। তেমনটা করলে প্রমাণ হবে যে ‘সোলা স্ক্রিপচুরা’ (Sola Scriptura) একটি ভ্রান্ত মতবাদ এবং ভুল ধর্মশিক্ষা। তবে এ কথা বলতে দ্বিধা নেই, তারা উল্লিখিত প্রশ্নগুলোর উত্তর সরাসরি ‘বাইবেল’ থেকে—অধ্যায় ও পদ উল্লেখ করে—কোনদিন দিতে পারবে না, যদি না তারা বাইবেলের বাইরের অন্য কোনো উৎস থেকে তা খুঁজে বের না করে।
